লক্ষ্মীপুরে বিপজ্জনক সাঁকোতে ঝুঁকি নিয়ে পারাপার

ByNoakhali Protidin

Jan 9, 2019

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের চর মার্টিন ইউনিয়নের বলিরপুল বাজার সংলগ্ন সড়কের দক্ষিণে বাত্তিরখালের ওপর প্রায় ৬০ ফুট লম্বা গাছের সাঁকোটি অবস্থিত। চলাচলে অনুপযোগী সাঁকোটি পারাপারে প্রতিনিয়ত ঘটছে মারাত্মক দুর্ঘটনা। স্বাধীনতার ৪৭ বছরেও সাঁকোটি নির্মাণ হয়নি।

লক্ষ্মীপুরের কমলনগরের চর মার্টিন ইউনিয়নের বলিরপুল বাজার সংলগ্ন সড়কের দক্ষিণে বাত্তিরখালের ওপর প্রায় ৬০ ফুট লম্বা গাছের সাঁকোটি অবস্থিত। চলাচলে অনুপযোগী সাঁকোটি পারাপারে প্রতিনিয়ত ঘটছে মারাত্মক দুর্ঘটনা। স্বাধীনতার ৪৭ বছরেও সাঁকোটি নির্মাণ হয়নি। ঝুঁকি নিয়ে চলছেন হাজার গ্রামবাসী। এতে বেড়েছে দুর্ভোগ। চর মাটিন ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে গাছের তৈরি সাঁকোটির বেহাল দশা।  চলাচলে সাঁকোটি এতটাই বিপজ্জনক। এটিকে কাজির দরজা সাঁকো বলা হয়।

একটি মাত্র সাঁকোতে আশেপাশের হাজার গ্রামবাসী বন্দি জীবন পার করছেন। সাঁকোটির বেহাল দশায়, স্থানীয়রা মাঝে মধ্যে  বাঁশ-কাঠ কেটে সাঁকোটি জোড়াতালি  দিয়ে পারাপার হচ্ছেন। যে কারণে প্রতিদিনই পারাপারে ঘটছে দুর্ঘটনা। তবুও ঝুঁকি নিয়েই চলাচল করেন শিশু, নারী ওবয়োবৃদ্ধরা।

সরেজমিন দেখা যায়, ভাঙা সাঁকোতে পারাপার হচ্ছেন মতিরহাট উচ্চ বিদ্যালয়, চর কালকিনি স্কুল, মুন্সিরহাট হাই স্কুল, তোরাবগন্জ হাই স্কুল, উপকূল কলেজ, কমলনগর কলেজ, কে আলম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, দক্ষিণ মার্টিন  নূরানি মাদ্রাসা এবং নাছিরগঞ্জ কাওমি মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরাসহ স্থানীয় গ্রামবাসী। সাঁকোটির দক্ষিণে হাজিরহাট, তালতলি, নাছিরগঞ্জ, চৌধুরীবাজার, চরলেরন্সসহ উপজেলা শহর এবং উত্তরে মতিরহাট, মুন্সিরহাট, তোরাবগন্জসহ জেলা সদরে যাতায়াতের একমাত্র পথ। এটিই ভরসা এ অঞ্চলে চলাচলের জন্য।

এ অঞ্চলটি কৃষি নির্ভরশীল এলাকা। এখানে সয়াবিন, বাদাম, মরিচ, শাক-সবজি উৎপাদন করা হয়। এসমস্ত উৎপাদিত পণ্য হাট-বাজারে বিক্রি করতে কৃষকদের ভোগান্তির শিকার হতে হয়। এ ছাড়া উৎপাদিত পণ্য-সামগ্রী উপজেলা ও জেলা সদরে নিতে কৃষকসহ আড়তদারদের খুবই সমস্যা দেখা দেয়।

কৃষক আমির হোসেন জানান, ফসল উৎপাদন করে এলাকার বাহিরে বিক্রি করতে পারি না। কেউ আসে না। কারণ যাতায়াত ব্যবস্থা ভালো না। গাছের সাঁকোর কারণে বড় যানবাহন আসতে পারে না। যার কারণে কম দামে ফসল বিক্রি করতে হয়।

স্থানীয় আলী হোসেন জানান, আমার বয়স প্রায় সত্তর বছর। এবয়সে সাঁকো দিয়ে চলাচল করতে পারি না। মসজিদে নামাজে যাতায়াতে খুব সমস্যা হয়। কয়েকবার সাঁকোর নিচে পড়ে যায়।ছোট বেলা থেকে এটি এভাবে দেখে এসেছি। কোন চেয়ারম্যান-মেম্বার এ সাঁকোটিতে নির্মাণে কাজ করেনি।

আলমগীর হোসেন জানান, এ অঞ্চলের সকলে প্রাণের দাবি এ সাঁকোটিকে ব্রিজে রুপান্তর করা। আমার স্ত্রী সাঁকো দিয়ে পারাপার করতে গেলে তার তিন বছরে বাচ্চা পড়ে গিয়ে হাত ভেঙে যায়। তাই এটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

ইব্রাহিম, মো. হাছান, মো. ইউছুফ বলেন, ছোট বেলে থেকে সাঁকোটি কে এভাবে দেখে এসেছি।  সাঁকোটি ব্যবহারে খুব বিপজ্জনক এবং চলাচলে অনুপযোগী। বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় এই পথেই ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করতে হয়। বেশি সমস্যা হয় শিশু,নারী, বয়োবৃদ্ধের। তারা আরও জানান, যোগাযোগ ব্যবস্থা না থাকায় কেউ এই গ্রামে আত্মীয়তা করতে চায় না। ছেলে-মেয়েকে বিয়ে করাতে বিপাকে পড়তে হয়। এছাড়াও স্কুল, কলেজ পড়ুয়ারা বেশি পড়তে পারে একটি ব্রিজের অভাবে অপূরণীয় ক্ষতি হচ্ছে, ছাত্র-ছাত্রীরা স্কুলে যেতে পারে না। কয়েকদিন আগে ঝুঁকি নিয়ে পার হতে গিয়ে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের এক শিশু পানিতে পড়ে যায়। পরে স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে। এমন পরিস্থিতির কারণে অনেক অভিভাবক তাদের শিশু সন্তানকে স্কুলে দিতে অনীহা প্রকাশ করছেন।

চর মার্টিন ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ইউছুপ আলী বলেন, বাত্তির খালের উপর একটি ব্রিজ নির্মাণ খুবই জরুরি। এটি বাজেট হয়েছে। কেন যে হচ্ছে জানি না। এ ব্যাপারে উপজেলা প্রশাসনের নিকট আবেদন করা হয়েছে।

উপজেলা পিআইও অফিস সূত্রে আবদুল বারেক জানান, সাঁকোটি কে ব্রিজে রুপান্তর করার জন্য প্রায় ৩২ লক্ষ টাকা বরাদ্দ হয়। কাজটি টেন্ডারও হয়। কিন্তু হঠাৎ করে ঠিকাদার কাজে অপরাগতা প্রকাশে দরখাস্ত দেন।বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী মহোদয়কে জানানো হয়েছে।

জানা যায়, সাঁকোটি প্রায় ৬০ ফুট লম্বা। বাজেট হয়েছে ৪০ ফুট। বাজেট অনুযায়ী কাজ বেশি হয়। কারণ এ সাঁকোটি খালের ওপর নির্মিত যার কারণে নদীর পানির জোয়ার-ভাটা স্রোত প্রবাহিত হয়। সৌতের পানির আগ্রাসনে মাটি থাকে না। যার কারনে কাজে বিলম্ব হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *


Notice: ob_end_flush(): failed to send buffer of zlib output compression (0) in /home/allbang1/public_html/noakhaliprotidin/wp-includes/functions.php on line 3818