বাংলা মায়ের কথা

0
637
লেখকঃ মোঃ একে আজাদ, সহকারী অধ্যাপক, ফার্মেসি বিভাগ, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
লেখকঃ মোঃ একে আজাদ, সহকারী অধ্যাপক, ফার্মেসি বিভাগ, ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি
বাংলা মায়ের কথা

বাবা তোমরা ভালো আছো? সত্যিই, সত্যিই কি ভালো আছো? আমাকে নিয়ে কত কথা তোমাদের। কথার সব কথাই যেন আমি। কথার কথাইও আমি। আসলে কি আমাকে নিয়ে তোমরা ভাবো?

বাবা, আমার মেরুদণ্ডের দুইটা হাড় সরে গেছেসে তুমি জানো। ক’বার খোঁজ নিয়েছ? মাথার পাশের টাকার থলিটা একটু সরিয়ে রাখো। এটার গন্ধ, তোমাদের দোহায় আমার আর ভালো লাগেনা।

যারাই আমাকে আঘাত করেছে, আক্রমন করেছে তাদের সবাইকে তাড়িয়েছ, আমি গর্ববোধ করি।
আজ দেখি তোমররাই আমার পোশাকে হাত দিয়েছ। আমি লজ্জাবোধ করি।

বাবা, মেরুদণ্ডের হাড় দুইটা একটু দেখ। আমি মাথাটা উঁচু করে দাঁড়াতে চাই।
বাবা, আজ তোমরা সবকিছু কেনাবেচা করো কেন? লজ্জা পাওনা?
ঐ শিক্ষক সন্তান, কি করার ছিল আর কি কর? মান বেচো কেন?
ঐ ছাত্র সন্তান, মুষ্টিবদ্ধ সামনে বাড়ানো হাতের শপথ স্বার্থে ভাঙ্গ কেন?
ঐ নেতা সন্তান, পদ বেচো কেন, দখলের চর্চাই কারে দখল কর?
বাবা, আমাকে দাঁড়াতে দাও, সবখানে অর্থ দেখো আর অর্থ দেখাও কেন?

ঐ ধার্মিক সন্তান, আমার বুকে ধর্ম বেচো কেন?
ঐ বিচারক সন্তান, রায় বেচো কেন?
ঐ আইন সন্তান, সব কাজে হাতে হাত বাড়াও কেন?
ঐ আমলা সন্তান, ফাইল বেচো কেন?
ঐ ব্যবসায়ী সন্তান, সবখানে ভেজাল খোঁজ কেন?
ঐ পথিক সন্তান, উল্টো চল কেন?
বাবা, আমাকে দাঁড়াতে দাও। আমি একটুদাঁড়াতে চাই।

আমার উত্তরে ধর্ষণ খেলা, দক্ষিনে লুটের মেলা।
পূর্বে মৃদু আলো, পশ্চিমে ঘোর কালো।
বক্ষমাঝে অসৎ আলাপ, মুখে মূর্খের অর্থের প্রলাপ।
আমাকে দাঁড়াতে দাও। আমি দাঁড়াতে চাই।

বড় সন্তান খেলছে ছোটদের মতো, কম কাজে শোষণ আর হিংসা যতো।
ছোট সন্তান আজ বুদ্ধিতে বড়, উল্টো চলে; ধার ধারেনা কারো।
রক্ত তাজা তরুন প্রান, হতাশায় ম্লান , প্রতিদিন কিছ তার অপরাধে দেই জান।
বাবা, সন্তান এমন হলে, আমি ভালো থাকবো কি ছলে!!
আমাকে দাঁড়াতে দাও। আমি দাঁড়াতে চাই।

লেখকঃ মোঃ একে আজাদ
সহকারী অধ্যাপক
ফার্মেসি বিভাগ
ড্যাফোডিল ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here