চুয়াডাঙ্গায় মাদ্রাসা ছাত্রের মাথাবিহীন লাশ উদ্ধার

0
289

চুয়াডাঙ্গায় মস্তকবিহীন আবির(১০) নামে এক মাদ্রাসা ছাত্রের লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। আবির কয়রাডাঙ্গা নুরানী হাফেজিয়া মাদ্রাসার দ্বিতীয় শ্রেনীর ছাত্র। মঙ্গলবার রাতে নিখোজ হবার পর বুধবার সকালে জেলার কয়রাডাঙ্গা মাদ্রাসার পাশে ইটভাটা আমবাগান থেকে আবিরের মস্তকবিহীন লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। নিহত আবির ঝিনাইদহ জেলার কালীগঞ্জ উপজেলার খালিশপুর গ্রামের আলী হোসেনের ছেলে। স্থানীয়রা জানায়, আবির গত মাসে সে কয়রাডাঙ্গা নুরানী হাফেজিয়া এতিমখানা মাদ্রাসায় ভর্তি হয়।

মঙ্গলবার রাতে এশার নামাজের পর রাতের খাওয়ার সময় নিখোজ হয় আবির। মাদ্রাসার সবাই অনেক খোজাখুজি করলেও তাকে পাওয়া যায়নি। বুধবার সকালে গ্রামবাসি রাস্তাদিয়ে যাবার পথে মস্তকবিহীন এক লাশ দেখতে পায়মাদরাসার অধ্যক্ষ মুফতি আবু হানিফ জানান, আবির হুসাইন দীর্ঘদিন ধরে মাদরাসাতে অধ্যয়নরত ছিল।

গত মঙ্গলবার এশার নামাযের কিছুক্ষণ আগ থেকে সে নিখোঁজ হয়। পরে স্থানীয়দের সহযোগিতায় গ্রামের বিভিন্ন স্থানে অনেক খোঁজাখুঁজি করেও আমরা তার সন্ধান পাইনি। এরপর সকালে গ্রামবাসী মাদরাসার অদূরে জনৈক ব্যক্তির আমবাগানের ভেতরে আবিরের মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধার করে।এসময় তারা পুলিশে খবর দেয়। খবর পেয়ে সকাল ৮ টার দিকে ঘটনাস্থলে পৌঁছান পুলিশ সুপার মাহবুবুর রহমান পিপিএম (বার), অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কানাই লাল সরকার, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) মো. কলিমুল্লাহ ও আলমডাঙ্গা থানার অফিসার ইনচার্জ আসাদুজ্জামান মুন্সি। আলমডাঙ্গা থানা পুলিশ নিহত ছাত্রের মরদেহ উদ্ধার করতে গেলে উত্তেজিত হয়ে ওঠে গ্রামবাসী। তারা মাদরাসা ছাত্র আবিরের হত্যাকারীদের গ্রেপ্তারের দাবিতে বিক্ষোভ করতে থাকেন। পরে পুলিশের পক্ষ থেকে মাইকিং করে গ্রামবাসীকে শান্ত থাকার অনুরোধ জানানো হয়। আশ্বাস দেয়া হয় ঘাতকের চিহ্নিত করে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে। এছাড়াও অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কানাই লাল সরকার জানান, মাদারাসা ছাত্রের ত্যাকা-ের বিষয়টি আমরা সর্বাধিক গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করছি। ঘটনার নেপথ্যে কি আছে সেটি অনুসন্ধানে আমাদের বেশ কয়েকটি ইউনিট কাজ করছে। খুব শীঘ্রই আমরা প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন করতে পারবো।

এদিকে, চুয়াডাঙ্গার কয়রাডাঙ্গা গ্রামে মাদরাসা ছাত্রের মাথাবিহীন মরদেহ উদ্ধারের পর গোটা এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। মাদারাসা থেকে ছাত্রদের তাদের অভিভাবকরা নিজ নিজ বাড়িতে নিয়ে যান। চুয়াডাঙ্গার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কলিমুল্লাহ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন আবিরের লাশ ময়নাতদন্তের জন্য চুয়াডাঙ্গা সদর হাসপাতালে নেয়া হয়েছে।তিনি আরো বলেন প্রাথমিক তদন্ত এবং উক্ত হত্যা কান্ডের বিষয়ে ডাক্তারদের মতামতের ভিত্তিতে জানা যায় যে, বলৎকার পূর্বক নুরানীকে গলা কেটে হত্যা করা হয়েছে। ময়না তদন্তে মৃতদেহ থেকে সোয়াব এবং ডিএনএ স্যাম্পল সংগ্রহ করা হয়েছে। উক্ত ঘটনার সাথে কে বা কারা জড়িত রয়েছে তাদের অতি দ্রুত সনাক্ত এবং গ্রেফতারের লক্ষ্যে অভিযান অব্যহত রয়েছে। “উলেখ্য যে, “ছেলে ধরা” গুজবের সাথে এই ঘটনার কোন সম্পর্ক নেই”

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here