“পলাশ বাবুর গিন্নি এবং ডাঃ সজল দাশ” 

0
83
লোকালয় বিচ্ছিন্ন এক অজয় পাড়ায় বসবাস করতেন পলাশ বাবু।তিনি শৈশব থেকে একটু বেখেয়ালী স্বভাব প্রকৃতির মানুষ।নিজের প্রতি খুব সচেতন এবং যত্নবান বটে কিন্তু অন্যদের প্রতি তার বিন্দুমাত্র মনোযোগ নেই।পড়াশুনা শেষ করে তিনি সরকারি শিক্ষক হিসেবে শহরে একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে যোগদান করেন।এর পাশাপাশি নিজের নামে একটি কোচিং সেন্টার খুলে সেখানে ডজনখানেক ছাত্রছাত্রীদের পাঠদান করান।
তার কয়েক মাস পর পরিবারের সকলের পছন্দ এবং নিজস্ব সম্মতি অনুযায়ী চন্দ্রিমা নামে এক মেয়ে কে বিয়ে করেন পলাশ বাবু।মেয়েটির নামের মাধুর্যতার সাথে রূপের মাধুর্য ও ফুটে উঠে সর্ব অঙ্গে।যেন সত্যিই এক চাঁদের আলো।যে কারো দেখে থাকতে ইচ্ছে করবে।
কিন্তু বিয়ের অল্প কয়েকদিন পরেই এই সুন্দরী গিন্নিকে বৃদ্ধা মায়ের কাছে রেখে পলাশ বাবু চলে যান তার কর্মশালায়।কর্মব্যস্ততায় যেন তিনি প্রায় ভুলে গেছেন তার রেখে যাওয়া নব্য গিন্নিকে।মাঝে মাঝে মোবাইল ফোনে অবশ্যই মায়ের শরীর স্বাস্থ্যের খবর নেন।কিন্তু তাও সপ্তাহে দু-তিনবার।এদিকে গিন্নিও ততটা বিচলিত নয় পলাশ বাবুর এই বেখায়ালী স্বভাবে।হয়তো গিন্নি মনে মনে এইরকমই স্বামী আশা করেছিল।যাতে সে নিজের মতোই করে চলতে পারে।
পলাশ বাবুর বাড়ির পাশ্ববর্তী রাস্তা দিয়ে যাতায়াত করতেন সজল দাশ।তিনি ছিলেন দুই সন্তানের জনক এবং পেশায় একজন ডাক্তার।
নিজ এলাকায় ছোট-খাটো একটি ফার্মেসী দিয়ে মানবসেবা এবং জীবিকা নির্বাহ করেন।তার ভিতরে একটা কু-স্বভাব সদা বিদ্যমান যা হলো নারীদের দেহের প্রতি লোভ লালসা।এমন চরিত্রের জন্য সমাজে তার প্রতি কারো কোনো অভিযোগ ছিল না কারণ তিনি ডাক্তার হিসেবে ভালোই চিকিত্সা করে থাকেন।খুব নাম-ডাক ছিল এলাকায় তার।
তিনি পলাশ বাবুর বিয়ের অনুষ্ঠানে স্পেশাল গেস্ট হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।সেখান থেকে চন্দ্রিমার যৌবন ভরা সুন্দরী লাবন্যময় দেহের প্রতি তার চোখ পড়ে এবং কাঙ্ক্ষিত স্বাদ মিটাতে নানান ফন্দি আঁকেন।দৈনিক দুপুর বেলা বাড়ি ফেরার পথে পলাশ বাবুর পুকুর ঘাটে উঁকি দিয়ে মাঝে মাঝে দেখতেন চন্দ্রিমার ভেজা কাপড় ছড়িয়ে থাকা শিহরিত অঙ্গপ্রতঙ্গ কখনও বা দেখতেন চন্দ্রিমা হাত পা ছেড়ে সাঁতার কাটে।একদিন চন্দ্রিমা তার ভেজা বুক থেকে কাপড় সরানো অবস্থায় সজল দাশের চোখাচোখি হয়ে পড়েন।এতে চন্দ্রিমা একটু লজ্জিত হয়েছে বটে কিন্তু ততটা বিচলিত হননি।
একদিন পলাশ বাবুর মায়ের সামান্য জ্বর এবং সর্দি হওয়ায় চন্দ্রিমা তার শাশুড়ি না করার পরেও সজল দাশকে আসার জন্য খবর দিলেন তের-চৌদ্দ বয়সী একটি ছেলের মাধ্যমে।পলাশ বাবুর গিন্নি পাঠিয়েছেন খবর শুনে সজল দাশ মনে মনে মহাখুশি এবং তাড়াহুড়ো করে চলে আসেন তাদের বাড়িতে।এই প্রথম দুজন অনেক কাছাকাছি এবং সরাসরি কথা বলেন।সজল দাশ পলাশ বাবুর মাকে ভালোভাবে দেখেশুনে প্রেসক্রিপশনে কিছু ঔষধ এবং মোবাইল নাম্বার লিখে চন্দ্রিমার হাতে দেন।পরবর্তী কোনও সমস্যা হলে যোগাযোগ করতে বলেন।
দু-তিনদিন পর বিকেল বেলায় সজল দাশের মোবাইলে অপরিচিত একটি ফোন নাম্বার থেকে কল আসে।তিনি ব্যস্ততার কারণে তখন ফোন রিসিভ করতে পারেননি বিধায়ই রাতে ঘুমোনোর পূর্বে ঐ নাম্বারে কল দিলেন।কারণ তিনি মনে মনে ভাবতেন চন্দ্রিমা একদিন না একদিন ফোন দিবেই।তাই তিনি আগে যদিও অপরিচিত নাম্বার এড়িয়ে যেতেন কিন্তু ইদানীং সকল অপরিচিত নাম্বারে কল করে জানার চেষ্টা করে ব্যাক্তির পরিচয়।
ঠিক ঐ নাম্বারে ফোন দেওয়ার পর যখন নারী কন্ঠের আওয়াজ শুনলেন তখন নিজ গিন্নির পাশ থেকে উঠে চলে যান ঘরের বাইরে।বহুসময় ধরে দুজনের মাঝে নানান বিষয়ে কথোপকথন হয়। এভাবে দিনরাত ঘন্টার পর ঘন্টা কথা বলতে থাকে তারা দুজন।ধীরে ধীরে ভালোলাগা সৃষ্টি হয় দুজনের প্রতি দুজনারি।চন্দ্রিমা প্রায় ভু্লে গিয়েছে বোধহয় সে যে কারো বিয়ে করা বউ।
সেই চন্দ্রিমার টুকটাক কিছুই হলে ছুটে আসেন সজল দাশ তার বাড়িতে এবং নানান অজুহাতে পলাশ বাবুর বৃদ্ধা মাকে বোকা বানিয়ে চিকিৎসার নামে পলাশ বাবুর হাতেগড়া সাজানো সজ্জিত রুমে দুজনে একান্তভাবে সময় কাটান।ঠিক এইভাবেই চলতে থাকে তাদের পরকীয়া প্রেম।
আজকাল পলাশ বাবুর অনুরোধেই সজল দাশ তাদের বাড়িতে ঘনঘন আসেন চন্দ্রিমার চিকিৎসা করার জন্যে কারণ চন্দ্রিমা প্রেগন্যান্ট কিছুদিন পর হয়তো মা হবেন তাছাড়া বেখেয়ালি পলাশ বাবুও বাবা হবেন।কেবল আড়ালে থেকে যাবে সেই ডাঃ সজল দাশ।সেদিন হয়তো তিনিও বিশ্ব জয়ের পতাকা উড়াবেন।
লেখক:
মোঃ শাহাদাত হোসেন রাজু 
শিক্ষার্থী, হাজী মুহাম্মদ মহসিন কলেজ, চট্টগ্রাম।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here