ইনি কিভাবে সভাপতি পদপ্রার্থী?

0
230

সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশ আওয়ামী লীগের জেলা-উপজেলা, ইউনিয়ন-ওয়ার্ড কমিটির ওপর জোর দিয়েছে কেন্দ্রীয় কমিটি। আগামী ডিসেম্বরেই আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কমিটির কাউন্সিল। তাই দলের হাইকমান্ডের চাওয়া কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের আগেই তৃণমূল থেকে জেলা-উপজেলা, ইউনিয়ন-ওয়ার্ডের কমিটিগুলো সাজিয়ে-গুছিয়ে নেওয়া।

আর এতেই গর্জে উঠেছে আওয়ামী লীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা।তার মধ্যে একটি নোয়াখালী সদর উপজেলার ধর্মপুর ইউনিয়ন।এই ইউনিয়নে ইতোমধ্যে দলের পদ নিয়ে চলছে চুলচেরা বিশ্লেষণ। কারা পাবেন এই ইউনিয়নের আওয়ামী লীগের পদগুলো। তাই নিয়ে নতুন-পুরোনো, ত্যাগী-অনুপ্রেবশকারী নেতাকর্মীদের মধ্যে চলছে কানাঘুষা! সবাই ব্যস্ত নেতাদের তেল দিতে। পোস্টার তৈরিতে। কারণ ক্ষমতাশীন দলের পদ বলে কথা।

নামে-বেনামে পোস্টার ছেয়ে গেছে রাস্তা-ঘাট থেকে স্যোশাল মিডিয়া। তার মধ্যে একটি পোস্টার এলাকার সাধারণ মানুষের নজর কেড়েছে। নজর কেড়েছে গণমাধ্যমরেও। তিনি মোঃ আবু তাহের। এলাকায় তাহের মাঝি নামে পরিচিত। ধর্মপুর ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি পদ চেয়ে পোস্টার ছাপিয়েছেন। করছেন তদবিরও। সাধারণ মানুষের অভিযোগ রয়েছে বর্তমান ইউনিয়ন কমিটির সভাপতির লোক তিনি। তার সাথে রয়েছে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। তাই তিনি সভাপতি পদটি পেয়েও যেতে পারেন। কারণ টাকাই সবই সম্ভব!

এলাকাবাসী সূত্রে জানা যায়, আবু তাহের মাঝি এলাকায় ডাকাত হিসেবে পরিচিত। নিজের তিন ছেলে ইসমাইল, জহিরুল হক ও অনিককে দিয়ে এলাকায় মানুষের ঘরে ঘরে চুরি-ডাকাতি করানো, মাদক ব্যবসা যেনো তার একটা পেশা। তিনি এক সময় ইট ভাটার মাঝির দায়িত্ব পালন করলেও বর্তমানে বেকার! তাই এলাকায় চুরি-ডাকাতি করতে তার কোনো দ্বিধাবোধ হয় না। এখানেই থেমে নেই আবু তাহের মাঝি নারী কেলেঙ্কারির মতো ঘটনাও তার সাথে জড়িত রয়েছে।

না প্রকাশে অনিশ্চুক একজন স্থানীয় ব্যক্তি নোয়াখালী প্রতিদিন ডটকমকে জানান, ধর্মপুর ইউনিয়নের পূর্বশুল্লুকিয়া গ্রামের পূর্বের (হুবের দোকান) দোকানের সাথেই তার বাড়ি। এর পাশের বাড়ির এক বিবাহিত গৃহবধুকে ধর্ষণের অভিযোগও রয়েছে তাহের মাঝির বিরুদ্ধে। এছাড়াও তিনি আরো কয়েকটি নারী কেলেঙ্কারির সাথে জড়িত রয়েছেন। কিন্তু লোক লজ্জ্বার ভয়ে অনেকেই মুখতে খুলতে চান না। তার ছেলেরাই মাদক সরবরাহ করে এলাকার যুব সমাজকে নিয়ে যাচ্ছে ধ্বংসের দিকে। এই নিয়ে এলাকার মসজিদের সমাজেও তাদেরকে সতর্ক করা েহয়েছে।

না প্রকাশে অনিশ্চুক আরো একজন স্থানীয় ব্যক্তি নোয়াখালী প্রতিদিন ডটকমকে জানান, কিছু দিন আগে বিদেশ থেকে পাঠানো আমার ছেলের ল্যাপটপ ছুরি করেছে তাহের মাঝির ছেলেরা। এই নিয়ে আমি সমাজীদের কাছে বিচারও দিয়ে ছিলামা কিন্তু কোনো প্রতিকার-বিচার পাইনি। কিন্তু কেনো পাই তাও আজও অজানা! কিসের বলে তাদের সমাজীরা কিছুই করতে পারছে না। শুধু আমি নই এখানে অনেকের বাড়িতেই চুরি করেছে তারা। ছেলেরা চুরি করে, মাদক ব্যবসা করে এই নিয়ে তাহের মাঝির কাছে অভিযোগ দিলে তিনি বলেন এই বয়সের ছেলে-পেলেরা এগুলা করবেই! তার মানে সেও জড়িত।

এলাকাবাসীর দাবি এর মতো একটা কুলাঙ্গার যদি এই ওয়ার্ডে আওয়ামী লীগের সভাপতি হয় তবে আরো ভয়ঙ্কর রূপ ধারণ করবে। তখন হারাবে মানবতা। থমকে যাবে জীবন!

একটু পেছনে ফিরে তাকালে দেখা যায় এই ইউনিয়নটি একসময় বিএনপির ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ছিল! কিন্তু এখন এতো আওয়ামী পরিবারের লোকজন আসলো কোথা থেকে? গত ইউনিয়ন পরিষদ নির্বাচনের আগেও এককভাবে দীর্ঘদিন যাবৎ ধর্মপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ছিলেন জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এডভোকেট অবদুর রহমান। হঠাৎ করে এতো আওয়ামী লীগ পরিবারের লোকজনে এলাকায় তৈরি হয়েছে দ্বিধা-দ্বন্দ।

খোজ নিয়ে জানা যায়, এই ইউনিয়নে বিপুল পরিমাণ নেতাকর্মী বিএনপি থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়েছেন। গত নির্বাচনের আগেও আনুষ্ঠানিকভাবে কয়েকশত নেতাকর্মী বিভিন্ন সংগঠন থেকে আওয়ামী লীগে যোগ দেন। এলাকাবাসীর অভিযোগ রয়েছে এই তাহের মাঝিও একসময় বিএনপির সমর্থন করতো। তাই দেশরত্ন, জননেত্রী ও মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর কাছে চাওয়া এমন ব্যক্তিরা যেনো মুক্তিযুদ্ধের শক্তির দল বাংলাদেশী আওয়ামী লীগে কোনো পদ না পাই। সেই সাথে এলাকায় তার এই সব অপকর্মের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে যেনো বিচার করা হয় সেই দাবিও জানান তারা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here