নোয়াখালী আওয়ামী লীগের সম্মেলন নিয়ে সংঘর্ষ: আহত শতাধিক

0
366

নোয়াখালী জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলনকে কেন্দ্র করে দুই সাধারণ সম্পাদক প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষ ও ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া হয়েছে। গতকাল বুধবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে ১০টা পর্যন্ত শহরের টাউন হল মোড়, সুধারাম থানা মোড় ও স্টেডিয়াম এলাকায় এ সংঘর্ষ হয়। এতে উভয়পক্ষের অন্তত ১৩০ জন আহত হয়েছেন। এ সময় কয়েকটি গুলি ও

ককটেল বিস্ম্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।

গতকাল শহরের মাইজদী শহীদ ভুলু স্টেডিয়ামে জেলা আওয়ামী লীগের ত্রিবার্ষিক সম্মেলন শুরু হয়। সম্মেলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। এ ছাড়া যুগ্ম-সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

প্রত্যক্ষদর্শী ও দলীয় সূত্রে জানা গেছে, সকাল ৮টার দিকে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী নোয়াখালী পৌরসভার মেয়র শহিদ উল্যাহ খান সোহেলের সমর্থকরা মিছিল নিয়ে শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে যায়। তারা ফিরে আসার পথে টাউন হল মোড়ে অপর সাধারণ সম্পাদক প্রার্থী একরামুল করিম চৌধুরী এমপির অনুসারীদের মুখোমুখি হন তারা। এ সময় উভয়পক্ষের

মধ্যে প্রথমে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও পরে সংঘর্ষ হয়। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উভয়পক্ষকে ছত্রভঙ্গ করে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। পরে সম্মেলনস্থল শহীদ ভুলু স্টেডিয়ামের কাছাকাছি উভয়পক্ষ মিছিল নিয়ে গেলে আবারও সংঘর্ষ হয়। দফায় দফায় সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত ১৩০ জন আহত হয়। তাদের ১০২ জনকে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা (আরএমও) সৈয়দ মহিউদ্দিন আবদুল আজিম জানান, ভর্তি ১০২ জনের মধ্যে অধিকাংশকেই চিকিৎসাসেবা দিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। বাকিরা ভর্তি আছেন। তবে কতজন ভর্তি আছেন সে বিষয়ে নিশ্চিত তথ্য জানাতে পারেননি তিনি।

পৌর মেয়র শহিদ উল্যাহ খান সোহেল অভিযোগ করে বলেন, ‘বিনা উস্কানিতে এমপির লোকজন আমার লোকদের ওপর হামলা চালিয়েছে। আমি হামলার তীব্র নিন্দা জানাই।’

জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক একরামুল করিম চৌধুরী এমপি শহিদ উল্যাহর অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে বলেন, ‘শান্তিপূর্ণ সম্মেলন বানচাল করার উদ্দেশ্যে বিএনপি-জামায়াতের লোক নিয়ে শহরে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করা হয়েছে।’

সুধারাম মডেল থানার ওসি নবীর হোসেন সংঘর্ষের বিষয়টি নিশ্চিত করলেও কতজন আহত হয়েছেন তা বলতে পারেননি। তিনি জানান, সকাল থেকেই তিনি মন্ত্রী ওবায়দুল কাদেরের সঙ্গে ডিউটিতে ছিলেন।

পুলিশ সুপার আলমগীর হোসেন বলেন, বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। শহরজুড়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। কোনো ধরনের বিশৃঙ্খলা বরদাস্ত করা হবে না।

সূত্র: সমকাল

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here